নিজস্ব প্রতিবেদক | প্যারিস, ফ্রান্স
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের নেতৃত্বের বিরোধ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির একটি অংশ গত রোববার (২৮ জুন) প্যারিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্য অংশের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দীর্ঘদিন ধরে একই নেতৃত্ব বহাল রাখার অভিযোগ তুলে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সদ্য বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আলতাফুর রহমান মূল অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি হেনু মিয়া এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আলী হোসেন গত ছয় বছর ধরে নেতৃত্বে রয়েছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারা নিয়মিত নির্বাচনের আয়োজন বা নতুন কমিটি গঠনের কোনো উদ্যোগ নেননি। একই সঙ্গে সংগঠনের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরণের অস্বচ্ছতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা জানান, ১৯৪৭ সালে সিলেট বিভাগের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে বাংলাদেশে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়, যার কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকার কারওয়ান বাজারে। এই সংগঠনের ঐতিহ্য মেনে ২০১৮ সালে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্স শাখার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। দুঃখজনকভাবে, বিগত ৬ বছর ধরে সংগঠনের নেতৃত্ব মাত্র দুইজনের হাতেই কুক্ষিগত ছিল।
উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটি গত বছর ফ্রান্স শাখার পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করে একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে এবং ১০০ দিনের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় সেই আহ্বায়ক কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
সদ্য বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আলতাফুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পরও আলী হোসেন অবৈধভাবে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি সংগঠনের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল করে ফেলেছেন এবং সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
আর্থিক অনিয়ম সম্পর্কে বলা হয়, ২০২২ সালের সুনামগঞ্জের বন্যা উপলক্ষে সংগৃহীত তহবিল এখনো পুরোপুরি বিতরণ করা হয়নি। কোনো ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন না হওয়ায় এই তহবিলের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ছাদ সংগঠনের ভেতরে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সীমিত কয়েকজনকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার তীব্র নিন্দা জানান। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ার হুসেন মোজাহিদ বন্যার তহবিল ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করার জোর দাবি জানান। সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাবেদ হুসেন অভিযোগ করেন যে, অনিয়মের কারণে তিনি নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশে গিয়ে কিছু ভুক্তভোগীর হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়া সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খসরুজ্জামান ও সাবেক সহ-সভাপতি আজাদ মিয়া দ্রুত একটি গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলতাফুর রহমান চূড়ান্ত বক্তব্যে বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও নির্ধারিত সময়ে নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। তাই বর্তমান সাংগঠনিক অচলাবস্থা ও প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করতে এক নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে:
“Euro Bangla 24 (সত্য প্রচারে আপোষহীন) “